টোটাল স্টেশন কী?
Uncategorized

টোটাল স্টেশন কী? ব্যবহার, কাজ ও কোনটি ভালো? (সম্পূর্ণ গাইড)

টোটাল স্টেশন কী?

টোটাল স্টেশন (Total Station) হলো একটি আধুনিক জরিপ যন্ত্র, যা টেলিস্কোপ দিয়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে তাক করে দূরত্ব ও কোণ একসাথে মাপে। যন্ত্রের ভেতরের প্রসেসর সেই মান থেকে সমতল দূরত্ব, উচ্চতার পার্থক্য এবং পয়েন্টের কোঅর্ডিনেট বের করে দেয়। ফলাফল যন্ত্রের মেমোরিতে সংরক্ষিত হয়, যা পরে কম্পিউটারে নিয়ে ম্যাপ বা ড্রয়িং বানানো যায়।

নামে “টোটাল” থাকার কারণ হলো, আগে যেখানে কোণ মাপতে থিওডোলাইট আর দূরত্ব মাপতে চেইন বা টেপ লাগত, এখন একটি যন্ত্রেই সব কাজ হয়। বাংলাদেশে অনেকে এটিকে “টোটাল স্টেশন মেশিন” নামেও খোঁজেন।

টোটাল স্টেশন কীভাবে কাজ করে?

টোটাল স্টেশন কাজ করে দুটি অংশের সমন্বয়ে: কোণ মাপার ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা এবং EDM (ইলেকট্রনিক দূরত্ব মাপক)।

  1. যন্ত্র ট্রাইপডে বসিয়ে একটি পরিচিত পয়েন্টের ঠিক উপরে লেভেল করা হয়।
  2. টেলিস্কোপ দিয়ে লক্ষ্যবস্তু (সাধারণত প্রিজম বা দেয়ালের মতো কোনো তল) তাক করা হয়।
  3. EDM থেকে ইনফ্রারেড বা লেজার রশ্মি বের হয়ে লক্ষ্যে লেগে ফিরে আসে। রশ্মির ফিরে আসার সময় বা তরঙ্গের পার্থক্য থেকে দূরত্ব হিসাব হয়।
  4. একই সময়ে ইলেকট্রনিক সার্কেল অনুভূমিক ও উল্লম্ব কোণ রেকর্ড করে।
  5. প্রসেসর এই তিনটি মান (ঢালু দূরত্ব, অনুভূমিক কোণ, উল্লম্ব কোণ) থেকে বাকি সব হিসাব করে।

মূল সূত্রগুলো:

  • সমতল দূরত্ব (HD) = ঢালু দূরত্ব × sin(জেনিথ কোণ)
  • উচ্চতার পার্থক্য (VD) = ঢালু দূরত্ব × cos(জেনিথ কোণ)
  • N = N₀ + HD × cos(অ্যাজিমুথ)
  • E = E₀ + HD × sin(অ্যাজিমুথ)
  • Z = Z₀ + যন্ত্রের উচ্চতা + VD − প্রিজমের উচ্চতা

অর্থাৎ যন্ত্র বসানোর পয়েন্টের কোঅর্ডিনেট, পেছনের একটি রেফারেন্স পয়েন্টের দিক (backsight), যন্ত্রের উচ্চতা ও প্রিজমের উচ্চতা জানা থাকলে যেকোনো নতুন পয়েন্টের কোঅর্ডিনেট পাওয়া যায়।

টোটাল স্টেশন দিয়ে কী কী মাপা যায়?

টোটাল স্টেশন দিয়ে নিচের জিনিসগুলো মাপা বা বের করা যায়:

  • দূরত্ব: ঢালু দূরত্ব এবং সমতল দূরত্ব, দুটোই।
  • Horizontal Angle (অনুভূমিক কোণ): দুই পয়েন্টের মধ্যে অনুভূমিক তলে কোণ।
  • Vertical Angle (উল্লম্ব কোণ): লক্ষ্যবস্তুর ঊর্ধ্ব বা নিম্নমুখী কোণ।
  • উচ্চতা: পয়েন্টের উচ্চতা ও দুই পয়েন্টের উচ্চতার পার্থক্য।
  • Coordinate: পয়েন্টের N, E, Z মান।
  • অতিরিক্ত হিসাব: ক্ষেত্রফল, দুই পয়েন্টের মধ্যে দূরত্ব, অনুপস্থিত লাইনের (missing line) পরিমাপ ইত্যাদি, যন্ত্রের সফটওয়্যারে থাকলে।

টোটাল স্টেশন দিয়ে দূরত্ব মাপা

প্রিজম মোডে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত এবং রিফ্লেক্টরলেস মোডে সাধারণত কয়েক শ মিটার পর্যন্ত দূরত্ব মাপা যায়। পাল্লা মডেলভেদে আলাদা, তাই কেনার আগে স্পেসিফিকেশন দেখে নিন।

টোটাল স্টেশন দিয়ে কোণ মাপা

যন্ত্রের অ্যাকুরেসির উপর নির্ভর করে কোণ সেকেন্ড (″) পর্যন্ত মাপা যায়। এই কারণেই এটি অটো লেভেলের চেয়ে অনেক বেশি তথ্য দেয়।

টোটাল স্টেশন দিয়ে উচ্চতা মাপা

হ্যাঁ, টোটাল স্টেশনে ত্রিকোণমিতিক পদ্ধতিতে উচ্চতা বের হয়। তবে অনেক নির্ভুল লেভেলিং বা দীর্ঘ লাইনের লেভেলিংয়ে অটো লেভেল বা ডিজিটাল লেভেল সাধারণত বেশি নির্ভরযোগ্য।

টোটাল স্টেশন দিয়ে Coordinate নির্ণয়

যন্ত্রের অবস্থান ও backsight ঠিকমতো সেট করলে প্রতিটি মাপা পয়েন্টের N, E, Z কোঅর্ডিনেট যন্ত্র নিজেই বের করে মেমোরিতে রাখে। এটাই টোটাল স্টেশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা।

টোটাল স্টেশনের প্রধান অংশগুলো কী কী?

অংশকাজ
টেলিস্কোপলক্ষ্যবস্তু তাক ও ফোকাস করা
EDMইনফ্রারেড বা লেজার রশ্মি দিয়ে দূরত্ব মাপা
অনুভূমিক ও উল্লম্ব সার্কেলইলেকট্রনিক ভাবে কোণ রেকর্ড করা
প্লেট লেভেল ও গোল বুদবুদযন্ত্র সমতল করা
লেজার বা অপটিক্যাল প্লামেটযন্ত্র পয়েন্টের ঠিক উপরে বসানো
ডিসপ্লে ও কিবোর্ডকমান্ড দেওয়া ও ফলাফল দেখা
মেমোরি ও পোর্ট (USB, SD, ব্লুটুথ)ডেটা সংরক্ষণ ও কম্পিউটারে স্থানান্তর
ব্যাটারিযন্ত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ
ট্রাইপড ও ট্রাইব্র্যাকযন্ত্র স্থির রাখা
প্রিজম ও প্রিজম পোলদূরের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রশ্মি ফেরত পাঠানো

টোটাল স্টেশন কী কাজে ব্যবহার করা হয়?

  • জমি জরিপ: সীমানা, প্লটের কোণ ও ক্ষেত্রফল নির্ণয়
  • ভবন নির্মাণ: কলাম, ফাউন্ডেশন ও গ্রিডের অবস্থান ঠিক করা
  • রাস্তা নির্মাণ: কেন্দ্ররেখা, বাঁক ও প্রস্থ চিহ্নিত করা
  • Topographic Survey: এলাকার উচ্চতা ও বৈশিষ্ট্যসহ ম্যাপ বানানো
  • Construction Layout (স্টেক আউট): ডিজাইনের নকশা অনুযায়ী মাঠে পয়েন্ট চিহ্নিত করা
  • অন্যান্য: ব্রিজ, ড্রেনেজ, শিল্প কারখানা ও কাঠামোর বিকৃতি পর্যবেক্ষণ

টোটাল স্টেশন দিয়ে জমি জরিপ কীভাবে করা হয়?

জমি জরিপে সাধারণত এই ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়:

  1. পরিদর্শন: এলাকা দেখে কন্ট্রোল পয়েন্ট ও সীমানার কোণ চিহ্নিত করা।
  2. যন্ত্র বসানো: পরিচিত পয়েন্টে ট্রাইপড বসিয়ে যন্ত্র লেভেল করা এবং যন্ত্রের উচ্চতা মাপা।
  3. Backsight সেট: আরেকটি পরিচিত পয়েন্টের দিকে তাক করে দিক (orientation) ঠিক করা।
  4. পয়েন্ট মাপা: প্রিজম পোল প্রতিটি সীমানা-কোণে ধরে রিডিং নেওয়া এবং কোড বা নাম দিয়ে সংরক্ষণ।
  5. ডেটা স্থানান্তর: ফাইল কম্পিউটারে নিয়ে CAD বা জরিপ সফটওয়্যারে প্লট করা।
  6. ক্ষেত্রফল নির্ণয়: কোঅর্ডিনেট থেকে ক্ষেত্রফল ও সীমানার দৈর্ঘ্য হিসাব করা।
  7. যাচাই: শেষে আবার একটি পরিচিত পয়েন্টে ফিরে গিয়ে ভুল মিলিয়ে দেখা।

মালিকানা ও আইনি জরিপের জন্য সরকারি ভূমি অফিসের স্বীকৃত জরিপ প্রক্রিয়াই প্রযোজ্য, তাই এই পদ্ধতি মূলত পেশাদার ও প্রযুক্তিগত জরিপের জন্য।

টোটাল স্টেশনের EDM কী?

EDM-এর পূর্ণরূপ Electronic Distance Measurement। এটি টোটাল স্টেশনের সেই অংশ, যা ইনফ্রারেড বা লেজার রশ্মি পাঠিয়ে দূরত্ব মাপে। রশ্মি লক্ষ্যবস্তুতে লেগে ফিরে আসে এবং ফিরে আসার সময় বা তরঙ্গের পার্থক্য (phase shift) থেকে যন্ত্র দূরত্ব হিসাব করে।

EDM-এর দুটি মোড সাধারণত থাকে:

  • প্রিজম মোড: প্রিজমে রশ্মি ফেরত আসে। বেশি দূরত্ব ও বেশি নির্ভুলতার জন্য উপযুক্ত।
  • রিফ্লেক্টরলেস মোড: দেয়াল, পাথর বা যেকোনো পৃষ্ঠ থেকে রশ্মি ফেরত আসে। প্রিজম ছাড়াই মাপা যায়।

মনে রাখুন: প্রিজম ব্যবহার করলে যন্ত্রে সঠিক প্রিজম কনস্ট্যান্ট সেট করতে হয়। ভুল সেট থাকলে প্রতিটি দূরত্বে একই পরিমাণ ভুল যোগ হবে।

Reflector ও Reflectorless টোটাল স্টেশনের পার্থক্য কী?

Reflector (প্রিজমভিত্তিক) টোটাল স্টেশনে পয়েন্টে প্রিজম ধরে রাখতে হয়। Reflectorless টোটাল স্টেশনে প্রিজম ছাড়াই পৃষ্ঠের উপর লেজার ফেলে দূরত্ব মাপা যায়। বেশিরভাগ আধুনিক মডেলে দুটি মোডই থাকে।

বিষয়Reflector (প্রিজম)Reflectorless
প্রিজম লাগে কি নালাগেলাগে না
সাধারণ পাল্লাবেশি (কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত, মডেলভেদে)কম (সাধারণত কয়েক শ মিটার, মডেলভেদে)
সাধারণ অ্যাকুরেসিবেশিপ্রিজমের তুলনায় সামান্য কম
উপযোগী কাজসীমানা, কন্ট্রোল পয়েন্ট, দীর্ঘ লাইনদেয়াল, উঁচু স্থাপনা, দুর্গম বা বিপজ্জনক জায়গা
লোক লাগেসাধারণত দুইজন (একজন প্রিজম ধরেন)একজনেই সম্ভব

একাধিক মডেলের মধ্যে বেছে নেওয়ার সময় আপনার কাজ কী ধরনের সেটি আগে ভাবুন। জমি সীমানা ও নির্ভুল কন্ট্রোল পয়েন্টে প্রিজম মোড ব্যবহার করুন। ভবনের উঁচু অংশ বা অগম্য পয়েন্টে রিফ্লেক্টরলেস কাজে লাগে।

২″, ৩″ ও ৫″ টোটাল স্টেশনের Accuracy বলতে কী বোঝায়?

টোটাল স্টেশনের কোণ অ্যাকুরেসি সেকেন্ড (″) এককে লেখা হয়। ১ ডিগ্রির ৩,৬০০ ভাগের ১ ভাগ হলো ১ সেকেন্ড। সংখ্যা যত কম, যন্ত্র তত নির্ভুল। মাপার সময় ১০০ মিটার দূরত্বে এর প্রভাব মোটামুটি এমন:

কোণ অ্যাকুরেসি১০০ মিটারে আনুমানিক পার্শ্বীয় বিচ্যুতিসাধারণ ব্যবহার
১″প্রায় ০.৫ মিমিঅতি নির্ভুল কাজ, মনিটরিং
২″প্রায় ১.০ মিমিনির্ভুল জরিপ, কন্ট্রোল, বড় প্রকল্প
৩″প্রায় ১.৫ মিমিসাধারণ জরিপ ও নির্মাণ
৫″প্রায় ২.৪ মিমিসাধারণ নির্মাণ ও জমি জরিপ

দূরত্ব অ্যাকুরেসি আলাদাভাবে লেখা থাকে, যেমন ±(২ মিমি + ২ ppm)। এখানে ppm মানে প্রতি কিলোমিটারে কত মিমি অতিরিক্ত ভুল যোগ হবে। কোণ ও দূরত্ব, দুটোই স্পেসিফিকেশন শিটে মিলিয়ে দেখুন।

কোন টোটাল স্টেশন ভালো?

সব কাজে সেরা একটি টোটাল স্টেশন বলে কিছু নেই। ভালো টোটাল স্টেশন হলো সেটি, যার অ্যাকুরেসি, পাল্লা ও সফটওয়্যার আপনার কাজের চাহিদা মেটায় এবং যার ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস নির্ভরযোগ্য। সাধারণ নির্মাণ ও জমি জরিপে ৩″ বা ৫″ রিফ্লেক্টরলেস মডেল যথেষ্ট। বেশি নির্ভুলতা লাগলে ২″ বা তার কম।

কোন কাজের জন্য কোন টোটাল স্টেশন বেছে নেবেন?

কাজকী দেখে বাছবেন
জমি জরিপ৩″ বা ৫″ অ্যাকুরেসি, প্রিজম মোড ভালো, এরিয়া ও COGO সফটওয়্যার
ভবন নির্মাণ ও লে-আউট২″ থেকে ৫″, রিফ্লেক্টরলেস মোড, স্টেক-আউট সফটওয়্যার, লেজার প্লামেট
রাস্তা নির্মাণ৩″ বা ২″, প্রিজমের পাল্লা বেশি, রোড লে-আউট ফাংশন
Topographic Surveyরিফ্লেক্টরলেস, বেশি মেমোরি, দ্রুত ডেটা ট্রান্সফার
নির্ভুল কন্ট্রোল বা মনিটরিং১″ বা ২″, প্রিজম মোডে উচ্চ অ্যাকুরেসি

উদাহরণ মডেল

নিচের মডেলগুলো আমরা ব্যবহারকারীদের কাছে সরবরাহ করি। প্রতিটির আসল স্পেসিফিকেশন আপনার সংগৃহীত ডেটাশিট থেকে লিখে দিন।

মডেলকোণ অ্যাকুরেসিরিফ্লেক্টরলেস পাল্লাসাধারণ উপযোগী কাজ
Kolida KTS-442P[ডেটাশিট দেখে লিখুন][ডেটাশিট দেখে লিখুন][কাজের ধরন]
Kolida KTS-442R8LCN[ডেটাশিট দেখে লিখুন][ডেটাশিট দেখে লিখুন][কাজের ধরন]
Kolida KTS-442UT[ডেটাশিট দেখে লিখুন][ডেটাশিট দেখে লিখুন][কাজের ধরন]
Leica TS03[ডেটাশিট দেখে লিখুন][ডেটাশিট দেখে লিখুন][কাজের ধরন]

টোটাল স্টেশন ও অটো লেভেলের মধ্যে পার্থক্য কী?

অটো লেভেল শুধু উচ্চতার পার্থক্য মাপে। টোটাল স্টেশন দূরত্ব, কোণ, উচ্চতা ও কোঅর্ডিনেট সবই মাপে এবং ডেটা সংরক্ষণ করে।

বিষয়টোটাল স্টেশনঅটো লেভেল
কী মাপেদূরত্ব, কোণ, উচ্চতা, কোঅর্ডিনেটমূলত উচ্চতা
ডেটা সংরক্ষণহ্যাঁনা (হাতে লিখতে হয়)
ব্যাটারিলাগেলাগে না
লোক লাগেএকজন বা দুইজনসাধারণত দুইজন
দামবেশিকম
সেরা ব্যবহারজমি জরিপ, লে-আউট, টপোগ্রাফিকনির্ভুল লেভেলিং, ফ্লোর ও রাস্তার লেভেল

শুধু লেভেল বা উচ্চতার কাজে অটো লেভেল সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য। বিস্তারিত জরিপ ও কোঅর্ডিনেট লাগলে টোটাল স্টেশন। অনেক সাইটে দুটোই একসাথে ব্যবহার হয়। [অটো লেভেল মেশিন কী? সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন (ইন্টারনাল লিংক যোগ করুন)।]

টোটাল স্টেশন ও থিওডোলাইটের মধ্যে পার্থক্য কী?

থিওডোলাইট শুধু অনুভূমিক ও উল্লম্ব কোণ মাপে। দূরত্ব মাপতে আলাদা টেপ, চেইন বা স্টেডিয়া লাগে। টোটাল স্টেশন থিওডোলাইটের কাজের সাথে EDM ও কম্পিউটার যুক্ত, তাই একই যন্ত্রে কোণ, দূরত্ব ও কোঅর্ডিনেট পাওয়া যায়।

বিষয়টোটাল স্টেশনথিওডোলাইট
কোণ মাপাহ্যাঁহ্যাঁ
দূরত্ব মাপাসরাসরি (EDM)আলাদা টেপ বা স্টেডিয়া
কোঅর্ডিনেটস্বয়ংক্রিয়হাতে হিসাব
ডেটা সংরক্ষণহ্যাঁনা
গতিদ্রুতধীর
বর্তমান ব্যবহারবেশি প্রচলিতকম

টোটাল স্টেশন কেনার আগে কী কী দেখতে হবে?

  1. কাজের ধরন: জমি জরিপ, নির্মাণ লে-আউট, রাস্তা না টপোগ্রাফিক, আগে ঠিক করুন।
  2. কোণ অ্যাকুরেসি: ২″, ৩″ বা ৫″। কাজের নির্ভুলতার চাহিদা অনুযায়ী বাছুন।
  3. দূরত্ব অ্যাকুরেসি: প্রিজম ও রিফ্লেক্টরলেস, দুই মোডের আলাদা অ্যাকুরেসি দেখুন।
  4. রিফ্লেক্টরলেস ও প্রিজমের পাল্লা: আপনার সাইটের সাধারণ দূরত্বের চেয়ে বেশি পাল্লার মডেল নিন।
  5. সফটওয়্যার: স্টেক-আউট, রিসেকশন, এরিয়া হিসাব, COGO ও রোড লে-আউট আছে কি না।
  6. ডেটা ট্রান্সফার: USB, SD কার্ড বা ব্লুটুথ আছে কি না।
  7. ডিসপ্লে ও কিবোর্ড: রোদে স্পষ্ট দেখা যায় কি না এবং বাংলা বা ইংরেজি মেনুতে কাজ করা সহজ কি না।
  8. লেজার প্লামেট ও কম্পেনসেটর: দ্রুত ও নির্ভুলভাবে যন্ত্র বসাতে সাহায্য করে।
  9. ব্যাটারি লাইফ: একটি চার্জে কত ঘণ্টা চলে, বাড়তি ব্যাটারি পাওয়া যায় কি না।
  10. মজবুত গঠন: ধুলা ও বৃষ্টি প্রতিরোধ (IP রেটিং) দেখুন।
  11. আনুষঙ্গিক: ট্রাইপড, প্রিজম, প্রিজম পোল, ক্যারিং কেস ও ব্যাটারি চার্জার সাথে আছে কি না।
  12. ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস: আসল পণ্য, বাংলাদেশে ক্যালিব্রেশন ও মেরামতের সুবিধা এবং খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় কি না।

টোটাল স্টেশন ব্যবহারের সময় সাধারণ ভুলগুলো কী?

  • যন্ত্রের উচ্চতা বা প্রিজমের উচ্চতা ভুল দেওয়া
  • প্রিজম কনস্ট্যান্ট ভুল সেট থাকা
  • যন্ত্র ঠিকমতো লেভেল বা সেন্টারিং না করা
  • Backsight ঠিকমতো না নেওয়া বা ভুল পয়েন্ট বেছে নেওয়া
  • প্রিজম পোল সোজা না ধরা
  • ইউনিট বা কোঅর্ডিনেট সিস্টেম ভুল সেট থাকা
  • আবহাওয়ার সংশোধন (তাপমাত্রা ও চাপ, ppm) ঠিক না রাখা
  • কাজের মাঝখানে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া এবং ডেটা সংরক্ষণ না হওয়া
  • মাঠ শেষ করার আগে একটি পরিচিত পয়েন্টে ফিরে গিয়ে যাচাই না করা
  • ডেটা ফাইলের ব্যাকআপ না রাখা

ভুল এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায়: কাজ শুরুর আগে ও শেষে একটি পরিচিত পয়েন্টে যন্ত্র থেকে রিডিং নিয়ে মিলিয়ে দেখুন।

টোটাল স্টেশন সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

টোটাল স্টেশন কী? একটি ইলেকট্রনিক জরিপ যন্ত্র, যা দূরত্ব ও কোণ মাপে এবং উচ্চতা ও কোঅর্ডিনেট হিসাব করে।

টোটাল স্টেশন কী কাজে ব্যবহার করা হয়? জমি জরিপ, ভবন ও রাস্তা নির্মাণ, টপোগ্রাফিক জরিপ ও কনস্ট্রাকশন লে-আউটে।

টোটাল স্টেশন দিয়ে জমি মাপা যায়? হ্যাঁ। সীমানা পয়েন্টের কোঅর্ডিনেট থেকে ক্ষেত্রফল ও দৈর্ঘ্য হিসাব করা যায়। তবে আইনি জরিপের জন্য সরকারি ভূমি অফিসের নিয়ম মানতে হবে।

টোটাল স্টেশন দিয়ে কি উচ্চতা মাপা যায়? হ্যাঁ, তবে নির্ভুল লেভেলিংয়ের জন্য অটো লেভেল সাধারণত বেশি নির্ভরযোগ্য।

Reflectorless টোটাল স্টেশন কী? যে টোটাল স্টেশন প্রিজম ছাড়াই যেকোনো পৃষ্ঠ থেকে লেজার ফেরত পেয়ে দূরত্ব মাপে।

২″, ৩″ ও ৫″ টোটাল স্টেশনের মধ্যে কোনটি ভালো? সংখ্যা যত কম, কোণ তত নির্ভুল। সাধারণ নির্মাণ ও জমি জরিপে ৩″ বা ৫″ যথেষ্ট। বেশি নির্ভুলতা লাগলে ২″।

টোটাল স্টেশন চালাতে কি লোক লাগে? প্রিজম মোডে সাধারণত দুইজন (একজন যন্ত্রে, একজন প্রিজম পোলে)। রিফ্লেক্টরলেস মোডে একজনেই সম্ভব।

কত দিন পর পর টোটাল স্টেশন ক্যালিব্রেশন করা উচিত? প্রকল্প শুরুর আগে, আঘাত লাগলে বা সন্দেহ হলে। নিয়মিত ব্যবহারে বছরে অন্তত একবার সার্ভিস করানো ভালো।

টোটাল স্টেশন ও অটো লেভেলের মধ্যে কোনটি ভালো? উচ্চতা বা লেভেলিংয়ের কাজে অটো লেভেল। দূরত্ব, কোণ ও কোঅর্ডিনেট লাগলে টোটাল স্টেশন।

Related posts